প্রতিদিনের চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সংবাদ

দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নিন, পানির দাম বাড়াবেন না-ক্যাব

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়ছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রামের কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

গত শনিবার ( ২ আগস্ট)  ওয়াসা বোর্ড সভায় এ প্রস্তাব দেয় সংস্থাটির বাণিজ্যিক ও রাজস্ব বিভাগ। আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই পর্যাযের গ্রাহকের জন্য ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগের চেয়ে ওয়াসার বিদ্যুৎ বিল এখন প্রতি মাসে দুই কোটি টাকা বেশি আসছে। এছাড়া আইন অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ওয়াসা সর্বশেষ ২০২২ সালে পানির দাম ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৩৭ টাকা। ওয়াসার সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট গ্রাহক সংযোগ ১ লাখ ৪ হাজার ৫১১টি। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশই আবাসিক। ফলে নতুন করে দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সাধারণ গৃহস্থালি গ্রাহকদের ওপর।

পানির দরবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষ্ণু কুমার দে’কে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে, বোর্ড সদস্য বেগম সৈয়দা জেরিন হোসেন ও রাসেল মিয়া। কমিটিকে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক ও অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে সুপারিশ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি

এ দিকে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রামের কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনিক অদক্ষতা, অনিয়ম এবং পানির অপচয় রোধ করা গেলে মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না।

রোববার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব জানায়, নগরীর প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় এখনও ওয়াসার পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়নি। অনেক এলাকায় গ্রাহকদের ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বা ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় সেবার মান ও পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

ক্যাবের নেতারা  অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড সভায় অতীতের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের পরিবর্তে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে পানির দাম বাড়ানো হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।

ইজতিহাদ/চট্টগ্রামের খবর/ জিএন